সুনামগঞ্জ , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ , ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ধীরে চলছে চারলেন প্রকল্পের কাজ ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই কিশোর আটক জন্মজয়ন্তীতে কবি নজরুল ইসলামকে স্মরণ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‌্যালি গাছের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কায় শ্রমিক নিহত, অটোরিকশার চাপায় প্রাণ গেল ৬ বছরের শিশুর পুশইনে মরিয়া বিএসএফ, সীমান্তে উত্তেজনা মে মাসে গণপিটুনি ও সহিংসতায় নিহত ৩১, ধর্ষণের শিকার ৮৩ নারী ও শিশু বাদাম চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালেও ফলন নিয়ে শঙ্কা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে ছাড় দেওয়া হবে না ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অনিয়ম, ক্ষোভে ফুঁসছেন বঞ্চিতরা টাঙ্গুয়ার হাওরে নিভে গেল ছোট্ট সৌম্যতার জীবনপ্রদীপ তাহিরপুরে ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় এমপি কামরুল মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির

সহিংসতা নয়, সুবিচারই হোক শান্তির পথ

  • আপলোড সময় : ১৭-০৬-২০২৫ ০৮:০৪:১৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৭-০৬-২০২৫ ০৮:০৪:১৫ পূর্বাহ্ন
সহিংসতা নয়, সুবিচারই হোক শান্তির পথ
সাম্প্রতিক সময়ে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় যেভাবে সহিংসতা ও পারিবারিক বিরোধে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, তা গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিরোধে এক ভাইকে প্রাণ দিতে হয়েছে, অন্যদিকে সন্দেহের বশে তরুণের মৃত্যু, আবার আরেক ঘটনায় পারিবারিক কলহে আপন চাচির প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ভাতিজা। এই তিনটি ঘটনা যেন একটি বড় সংকেত দিচ্ছে- আমাদের সমাজে সহিংসতা ধীরে ধীরে নতুন মাত্রায় রূপ নিচ্ছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলার জামলাবাজ গ্রামে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে নজরুল ইসলামকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সুলফির আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়, আহত হন তার বড় ভাইও। নিহত নজরুল ছিলেন স্থানীয় যুবদলের একজন নেতা। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজবাড়ি গ্রামে একটি বাড়িতে চুরির সন্দেহে আহত হয়ে পরে রক্তক্ষরণে এক তরুণের মৃত্যু হয়। ইকবাল হোসেন নামের একজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে নিহত তরুণের পরিবার এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হত্যা’ বলে দাবি করছে। এখানে প্রশ্ন উঠে- চুরি সন্দেহ হলেই কি কেউ বিচার বহির্ভূতভাবে দা দিয়ে কোপ মারার অধিকার রাখে? নাকি আইনের আওতায় এনে বিচার হওয়া উচিত? আর দোয়ারাবাজারে আপন চাচির প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ভাতিজা। পারিবারিক পূর্ববিরোধের জেরে এমন এক নারকীয় হত্যাকা- যেন প্রমাণ করে - পরিবার এখন আর নিরাপদ আশ্রয় নয় অনেকের জন্যই। এই তিনটি ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত বা পারিবারিক নয়; এগুলো সমাজের সামগ্রিক অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি। আমরা মনে করি, এখনই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর, নিরপেক্ষ ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিটি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সমাজে আইন, মূল্যবোধ এবং সহনশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে পারিবারিক ও শিক্ষাগত প্রতিটি স্তরে। প্রকৃতপ্রস্তাবে, সুনামগঞ্জসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনে নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতেই হবে। তা না হলে এই সহিংসতা একদিন সর্বগ্রাসী হয়ে উঠবে - যার দায় কেবল ব্যক্তিগত নয়, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ব্যবস্থার ওপরই বর্তাবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স